ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ৮ আরোহী স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬: মরণোত্তর সম্মাননায় ডা. জাফরুল্লাহ, খালেদা জিয়াসহ ১৬ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিংয়ে ছাড়পত্র, এপ্রিলে শুরু—ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে বড় পরিবর্তন, পুরো প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ, দলীয় নয়—প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকও ফলহীন, দোষারোপে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সিলেট সীমান্তে হালকা ভূমিকম্প, আতঙ্কিত স্থানীয়রা দীর্ঘায়িত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক অষ্টম ঘণ্টায়, সমঝোতার আভাস জ্বালানি সংকটে অফিস সময় কমলো, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হবে মার্কেট ইন্দোনেশিয়া–ফিলিপাইনে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই একদিনে বিসিবিতে আরও চার পরিচালকের পদত্যাগ, বাড়ছে অস্থিরতা হলান্ডের হ্যাটট্রিকে লিভারপুল বিধ্বস্ত, সিটির সেমিফাইনাল নিশ্চিত টানা ১৬ ঘণ্টা কর্মব্যস্ততায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে বাংলাদেশ, শুরু তেল আমদানির উদ্যোগ হলুদ কার্ডে পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ নেইমার, তবুও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ঢাবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হাজারীবাগের বাসা থেকে উদ্ধার মরদেহ এলপিজির দাম আবারও বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৭২৮ টাকা জবিতে ৫ম ধাপের ভর্তি কার্যক্রম শুরু, আবেদন শেষ ৬ এপ্রিল

হিমাচলে তুষারঝড়ের তাণ্ডব: ৮৩৫ সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার।

ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে টানা ভারি তুষারপাতের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাজ্যের তিনটি জাতীয় মহাসড়কসহ মোট অন্তত ৮৩৫টি সড়ক যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি নতুন ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ সক্রিয় হওয়ায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে রাজ্যের উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলোতে আবারও ভারি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে—এমন পূর্বাভাসে বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, উপজাতীয় অধ্যুষিত লাহুল ও স্পিতি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে লেহ–মানালি ও কাজা–গ্রাম্পু জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় ২৮২টি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানী শিমলায় ২৩৪টি, মান্ডিতে ১১০টি এবং চাম্বায় ৭৮টি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কুল্লু জেলাতেও সাইঞ্জ–লুহরি–আউট জাতীয় মহাসড়কসহ ৬৫টি সড়ক তুষারে ঢাকা পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন সিরমৌর, কিন্নর ও কাংড়া জেলার বাসিন্দারাও।
তুষারপাতের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৯৪২টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ায় হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে শিমলা জেলায় সবচেয়ে বেশি—৭৮৯টি এবং সিরমৌরে ৩৫৪টি ট্রান্সফরমার অকেজো রয়েছে।
লাহুল ও স্পিতি জেলার তাবো গ্রামে তাপমাত্রা নেমে গেছে হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে, ফলে সেখানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। পাশাপাশি মানালি, উনা, হামিরপুর ও বিলাসপুরেও প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। কুল্লু, কিন্নর, চাম্বা এবং লাহুল ও স্পিতি জেলার জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের বাকি জেলাগুলোতে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’, যেখানে বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া ও তীব্র শীতের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Nazmun Nahar

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ৮ আরোহী

হিমাচলে তুষারঝড়ের তাণ্ডব: ৮৩৫ সড়ক বন্ধ, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার।

Update Time : ০৭:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে টানা ভারি তুষারপাতের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাজ্যের তিনটি জাতীয় মহাসড়কসহ মোট অন্তত ৮৩৫টি সড়ক যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি নতুন ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ সক্রিয় হওয়ায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে রাজ্যের উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলোতে আবারও ভারি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে—এমন পূর্বাভাসে বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, উপজাতীয় অধ্যুষিত লাহুল ও স্পিতি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে লেহ–মানালি ও কাজা–গ্রাম্পু জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় ২৮২টি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানী শিমলায় ২৩৪টি, মান্ডিতে ১১০টি এবং চাম্বায় ৭৮টি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কুল্লু জেলাতেও সাইঞ্জ–লুহরি–আউট জাতীয় মহাসড়কসহ ৬৫টি সড়ক তুষারে ঢাকা পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন সিরমৌর, কিন্নর ও কাংড়া জেলার বাসিন্দারাও।
তুষারপাতের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৯৪২টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ায় হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে শিমলা জেলায় সবচেয়ে বেশি—৭৮৯টি এবং সিরমৌরে ৩৫৪টি ট্রান্সফরমার অকেজো রয়েছে।
লাহুল ও স্পিতি জেলার তাবো গ্রামে তাপমাত্রা নেমে গেছে হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে, ফলে সেখানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। পাশাপাশি মানালি, উনা, হামিরপুর ও বিলাসপুরেও প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। কুল্লু, কিন্নর, চাম্বা এবং লাহুল ও স্পিতি জেলার জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের বাকি জেলাগুলোতে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’, যেখানে বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া ও তীব্র শীতের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।