শাহজাদপুরে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন থাকায় তাকে দোষী হিসেবে ঘোষণা করার কোনো সুযোগ নেই।
মামলার নথি অনুযায়ী, আদালত পূর্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষ লিখিত আপত্তি দাখিল না করায় পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২২ জুন ঠিকাদারের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে ইউএনও সাবরিনা শারমিন সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ২১ জুলাই ইউএনও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়। বাদীপক্ষের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় এই পদক্ষেপ আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল। এ অভিযোগে ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অর্থদণ্ডের আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, ইউএনও সাবরিনা শারমিন আদালতে দাখিল করা লিখিত আপত্তিতে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাকে নোটিশ প্রদান করা হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগও দেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি মামলার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
আপত্তি পর্যালোচনা শেষে আদালত মন্তব্য করেন, আদালতের আদেশ সম্পর্কে আপত্তিপত্রে ব্যবহৃত কিছু বক্তব্য আদালতের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরপর আদালত ইউএনওকে নির্ধারিত তারিখে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে তার বক্তব্য ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেন।
পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইউএনও আদালতে উপস্থিত হতে না পারার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। ইউএনওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত দায় নির্ধারণ করবে আদালতের চূড়ান্ত রায়।
এ কারণে মামলাটিকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ইউএনও সাবরিনা শারমিনকে আইনগতভাবে নির্দোষ বলেই গণ্য করা হবে।
মোছাঃ নাজমুন নাহার রুমকী 










