ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
জিয়া উদ্যানের মাজারে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার উপকূলে অস্থিরতা, লুটপাটে জড়াল মানুষ তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১১ জেলা, সপ্তাহজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাবের বিরুদ্ধে একসুরে চীন-রাশিয়া পাকিস্তানকে ধবলধোলাই, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে টপকালো বাংলাদেশ মিরপুরে জয়ের দুয়ারে বাংলাদেশ, তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে পাকিস্তান বিশ্বকাপ দলে ফিরেই আবেগে ভাসলেন নেইমার, রাফিনিয়াকে বললেন ‘এবার ট্রফি চাই’ ইবোলার ভয়াল থাবায় কঙ্গো, দ্রুত ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা, দুর্নীতিতে শূন্য সহনশীলতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধকে ব্যক্তি হিসেবে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশে ভিন্ন আয়োজন, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনে পর্দা উঠছে FIFA World Cup 2026 বিশ্বকাপ সামনে, স্কোয়াড ঘোষণায় কড়া নির্দেশনা ফিফার মুশফিকের ফিফটি, তাসকিনের ঝড়—৪১৩ রানে থামল বাংলাদেশ লোহাগাড়ায় বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১১ জয়পুরহাটে অভিনব কৌশলে দুই তরুণকে জিম্মি করে মোবাইল ছিনতাই, অভিযুক্ত যুবক পলাতক ‘৯৯% পুলিশ সৎ’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে সমঝোতার খসড়া চূড়ান্তে জোর ইরানের মানিয়ে নিতে না পারায় হার, অজুহাত মানছেন না সাইফ হাসান তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ৭ এপ্রিল, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে নতুন অগ্রগতি

  • এম এ মোমিন
  • Update Time : ০৫:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৭ Time View

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিলম্ব কাটিয়ে আগামী ৭ এপ্রিল ইউনিট-১-এর চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ বাড়তে পারে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেলে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনকেই বলা হয় ফুয়েল লোডিং। প্রক্রিয়াজাত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি ছোট পেলেট ধাতব নলে ভরে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড, যা একত্রে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি হিসেবে চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে, যা ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে আনা হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে ফিশন বিক্রিয়া শুরু, তাপ উৎপাদন এবং টারবাইন চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। প্রতিটি ধাপ কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
সাধারণত এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ দিন সময় লাগলেও অনুকূল পরিস্থিতিতে ২১ দিনেও শেষ করা সম্ভব। শুরুতে খুব কম ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৪০ দিনের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণে জাতীয় গ্রিড প্রস্তুত। তবে গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি স্থিতিশীল রাখা নিয়ে রুশ পক্ষ কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হবে। পুরো সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে তিন থেকে চার মাস লাগতে পারে।
ফুয়েল লোডিং শেষে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে বছরের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের সমীক্ষা চুক্তি হয় ২০১৩ সালে এবং নির্মাণ চুক্তি ২০১৫ সালে। প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষে শেষ হতে পারে।
সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৮ সালের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

M A Momin

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া উদ্যানের মাজারে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু ৭ এপ্রিল, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে নতুন অগ্রগতি

Update Time : ০৫:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিলম্ব কাটিয়ে আগামী ৭ এপ্রিল ইউনিট-১-এর চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ বাড়তে পারে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেলে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনকেই বলা হয় ফুয়েল লোডিং। প্রক্রিয়াজাত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি ছোট পেলেট ধাতব নলে ভরে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড, যা একত্রে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি হিসেবে চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে, যা ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে আনা হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে ফিশন বিক্রিয়া শুরু, তাপ উৎপাদন এবং টারবাইন চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। প্রতিটি ধাপ কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
সাধারণত এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ দিন সময় লাগলেও অনুকূল পরিস্থিতিতে ২১ দিনেও শেষ করা সম্ভব। শুরুতে খুব কম ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৪০ দিনের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণে জাতীয় গ্রিড প্রস্তুত। তবে গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি স্থিতিশীল রাখা নিয়ে রুশ পক্ষ কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হবে। পুরো সমন্বয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে তিন থেকে চার মাস লাগতে পারে।
ফুয়েল লোডিং শেষে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে বছরের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের সমীক্ষা চুক্তি হয় ২০১৩ সালে এবং নির্মাণ চুক্তি ২০১৫ সালে। প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষে শেষ হতে পারে।
সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৮ সালের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।