ঢাকা , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১১ জেলা, সপ্তাহজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাবের বিরুদ্ধে একসুরে চীন-রাশিয়া পাকিস্তানকে ধবলধোলাই, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে টপকালো বাংলাদেশ মিরপুরে জয়ের দুয়ারে বাংলাদেশ, তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে পাকিস্তান বিশ্বকাপ দলে ফিরেই আবেগে ভাসলেন নেইমার, রাফিনিয়াকে বললেন ‘এবার ট্রফি চাই’ ইবোলার ভয়াল থাবায় কঙ্গো, দ্রুত ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা, দুর্নীতিতে শূন্য সহনশীলতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধকে ব্যক্তি হিসেবে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশে ভিন্ন আয়োজন, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনে পর্দা উঠছে FIFA World Cup 2026 বিশ্বকাপ সামনে, স্কোয়াড ঘোষণায় কড়া নির্দেশনা ফিফার মুশফিকের ফিফটি, তাসকিনের ঝড়—৪১৩ রানে থামল বাংলাদেশ লোহাগাড়ায় বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১১ জয়পুরহাটে অভিনব কৌশলে দুই তরুণকে জিম্মি করে মোবাইল ছিনতাই, অভিযুক্ত যুবক পলাতক ‘৯৯% পুলিশ সৎ’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে সমঝোতার খসড়া চূড়ান্তে জোর ইরানের মানিয়ে নিতে না পারায় হার, অজুহাত মানছেন না সাইফ হাসান তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করল এমভি বাংলার জয়যাত্রা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন ৮ আরোহী

আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন চায় পিএসসি, খসড়া অধ্যাদেশ পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’–এর একটি খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন পিএসসির চেয়ারম্যান।
তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নতুন সরকার গঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এই সময়ে পিএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া পিএসসির আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতিনির্ধারকের আপত্তিও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে আপত্তি তুলনামূলকভাবে কম।
পিএসসির নীতিনির্ধারকদের মতে, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার অভাবে কমিশনকে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বর্তমানে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যার ফলে কাজের গতি ব্যাহত হয়। বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সংখ্যা ও পরিধি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ এগোনো কঠিন হয়ে পড়ছে।
পিএসসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংবিধানে উল্লেখিত আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিশনকে এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে কমিশনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে কমিশনের সদস্যদের বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়েও সাময়িক জটিলতা দেখা দেয়। সে সময় তাঁদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি আইনি ভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পিএসসি।
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পিএসসির চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এবং সদস্যরা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমপর্যায়ের বেতন, ভাতা ও সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রতি অর্থবছরে কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে এবং অনুমোদিত খাতে ব্যয়ের জন্য আলাদা পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকবে।
পিএসসির মতে, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিসিএসসহ অন্যান্য নিয়োগ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সহজ হবে, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কমিশন অনেক সময় কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হলে কমিশনের কাজের গতি ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং তা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যও মঙ্গলজনক হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Nazmun Nahar

জনপ্রিয় সংবাদ

তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১১ জেলা, সপ্তাহজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট

আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন চায় পিএসসি, খসড়া অধ্যাদেশ পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

Update Time : ০৪:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’–এর একটি খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন পিএসসির চেয়ারম্যান।
তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নতুন সরকার গঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এই সময়ে পিএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া পিএসসির আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কিছু নীতিনির্ধারকের আপত্তিও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে আপত্তি তুলনামূলকভাবে কম।
পিএসসির নীতিনির্ধারকদের মতে, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার অভাবে কমিশনকে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বর্তমানে অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যার ফলে কাজের গতি ব্যাহত হয়। বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সংখ্যা ও পরিধি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ এগোনো কঠিন হয়ে পড়ছে।
পিএসসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংবিধানে উল্লেখিত আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিশনকে এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে কমিশনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে কমিশনের সদস্যদের বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়েও সাময়িক জটিলতা দেখা দেয়। সে সময় তাঁদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি আইনি ভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পিএসসি।
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পিএসসির চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এবং সদস্যরা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমপর্যায়ের বেতন, ভাতা ও সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রতি অর্থবছরে কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে এবং অনুমোদিত খাতে ব্যয়ের জন্য আলাদা পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান ও মহাহিসাব নিরীক্ষকের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকবে।
পিএসসির মতে, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিসিএসসহ অন্যান্য নিয়োগ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সহজ হবে, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কমিশন অনেক সময় কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হলে কমিশনের কাজের গতি ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং তা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যও মঙ্গলজনক হবে।