রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরে শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকারসহ ৩০ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামের এই ঘোষণাপত্রে মৌলিক ইশতেহারের পাশাপাশি ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি, আট দফা নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে ছয় দফা পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক ২৮টি উন্নয়ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা, দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলটি কৃষি ও শিল্পখাতে বিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে নৈতিকতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু, সর্বজনীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিও দায়বদ্ধতার উল্লেখ রয়েছে।
ইশতেহারে আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সব শ্রেণির মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য দূর করা, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশদূষণ, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে।
খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা বন্ধ, বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের শুধু সমান অধিকার নয়, অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং কওমি মাদ্রাসার যোগ্য ডিগ্রিধারীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ, স্বাস্থ্যকার্ড চালু এবং কৃষিকার্ড প্রবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নাজমুন নাহার রুমকী 



















