ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
জিয়া উদ্যানের মাজারে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার উপকূলে অস্থিরতা, লুটপাটে জড়াল মানুষ তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১১ জেলা, সপ্তাহজুড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রভাবের বিরুদ্ধে একসুরে চীন-রাশিয়া পাকিস্তানকে ধবলধোলাই, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে টপকালো বাংলাদেশ মিরপুরে জয়ের দুয়ারে বাংলাদেশ, তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে পাকিস্তান বিশ্বকাপ দলে ফিরেই আবেগে ভাসলেন নেইমার, রাফিনিয়াকে বললেন ‘এবার ট্রফি চাই’ ইবোলার ভয়াল থাবায় কঙ্গো, দ্রুত ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা, দুর্নীতিতে শূন্য সহনশীলতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধকে ব্যক্তি হিসেবে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশে ভিন্ন আয়োজন, বর্ণাঢ্য উদ্বোধনে পর্দা উঠছে FIFA World Cup 2026 বিশ্বকাপ সামনে, স্কোয়াড ঘোষণায় কড়া নির্দেশনা ফিফার মুশফিকের ফিফটি, তাসকিনের ঝড়—৪১৩ রানে থামল বাংলাদেশ লোহাগাড়ায় বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১১ জয়পুরহাটে অভিনব কৌশলে দুই তরুণকে জিম্মি করে মোবাইল ছিনতাই, অভিযুক্ত যুবক পলাতক ‘৯৯% পুলিশ সৎ’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে সমঝোতার খসড়া চূড়ান্তে জোর ইরানের মানিয়ে নিতে না পারায় হার, অজুহাত মানছেন না সাইফ হাসান তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে দণ্ডিত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে হীরার গয়না ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ব্যাগ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করা হয়। তিনি অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী।
এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী—উভয়েই দণ্ডিত হলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যর্থভাবে সামরিক আইন জারির চেষ্টা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার দায়ে ইউন সুক ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৬ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের উপহার গ্রহণ করেন কিম কন হি। এসব উপহারের মধ্যে ছিল বিখ্যাত গ্রাফ ব্র্যান্ডের একটি হীরার নেকলেস এবং একাধিক শ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ।
বুধবার (২৮ জুলাই) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক উ ইন-সুং রায়ে বলেন, কিম কন হি ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। বিচারকের ভাষায়, “উচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিদের আরও বেশি সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের সাজসজ্জার বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেখিয়েছেন।”
শুনানিতে উত্থাপিত তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটিতে কিম দোষী সাব্যস্ত হন। যদিও প্রসিকিউশন দল তার জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি ওন জরিমানার আবেদন করেছিল। আদালত বিবেচনায় নেয় যে, কিম নিজে থেকে ঘুষ দাবি করেননি এবং তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই।
রায়ে আদালত তাকে নগদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ওন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং হীরার নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।
তবে শেয়ারমূল্য কারসাজি এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক ব্রোকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণের অভিযোগে কিম কন হিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কিমের বিরুদ্ধে ইউনিফিকেশন চার্চের অনুসারীদের তার স্বামীর দল পিপল পাওয়ার পার্টিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিনিময়ে উপহার নেওয়ার অভিযোগে আরও মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
রায়ের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম কন হি বলেন, আদালতের কঠোর তিরস্কার তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখবেন না। পাশাপাশি জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদিও এর আগে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘বড় অন্যায়’ বলে দাবি করেছিলেন। তবে শ্যানেল ব্যাগ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও ব্যবহার না করেই ফেরত দেওয়ার কথা বলেন।
এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ইউনিফিকেশন চার্চের প্রধান হান হাক-জাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফৌজদারি মামলার বাইরে কিম কন হির নাম আরও নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। গত বছর সুকমিউং উইমেনস ইউনিভার্সিটি তার ১৯৯৯ সালে অর্জিত আর্ট এডুকেশন ডিগ্রি বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা পর্যালোচনা কমিটি তার মাস্টার্স থিসিসে প্ল্যাজারিজমের প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Nazmun Nahar

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া উদ্যানের মাজারে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে দণ্ডিত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হি।

Update Time : ০১:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে হীরার গয়না ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ব্যাগ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করা হয়। তিনি অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী।
এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী—উভয়েই দণ্ডিত হলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যর্থভাবে সামরিক আইন জারির চেষ্টা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার দায়ে ইউন সুক ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৬ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের উপহার গ্রহণ করেন কিম কন হি। এসব উপহারের মধ্যে ছিল বিখ্যাত গ্রাফ ব্র্যান্ডের একটি হীরার নেকলেস এবং একাধিক শ্যানেল ব্র্যান্ডের ব্যাগ।
বুধবার (২৮ জুলাই) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক উ ইন-সুং রায়ে বলেন, কিম কন হি ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। বিচারকের ভাষায়, “উচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিদের আরও বেশি সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের সাজসজ্জার বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেখিয়েছেন।”
শুনানিতে উত্থাপিত তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটিতে কিম দোষী সাব্যস্ত হন। যদিও প্রসিকিউশন দল তার জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি ওন জরিমানার আবেদন করেছিল। আদালত বিবেচনায় নেয় যে, কিম নিজে থেকে ঘুষ দাবি করেননি এবং তার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই।
রায়ে আদালত তাকে নগদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ওন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং হীরার নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।
তবে শেয়ারমূল্য কারসাজি এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক ব্রোকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণের অভিযোগে কিম কন হিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কিমের বিরুদ্ধে ইউনিফিকেশন চার্চের অনুসারীদের তার স্বামীর দল পিপল পাওয়ার পার্টিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিনিময়ে উপহার নেওয়ার অভিযোগে আরও মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
রায়ের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম কন হি বলেন, আদালতের কঠোর তিরস্কার তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখবেন না। পাশাপাশি জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদিও এর আগে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘বড় অন্যায়’ বলে দাবি করেছিলেন। তবে শ্যানেল ব্যাগ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও ব্যবহার না করেই ফেরত দেওয়ার কথা বলেন।
এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ইউনিফিকেশন চার্চের প্রধান হান হাক-জাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফৌজদারি মামলার বাইরে কিম কন হির নাম আরও নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। গত বছর সুকমিউং উইমেনস ইউনিভার্সিটি তার ১৯৯৯ সালে অর্জিত আর্ট এডুকেশন ডিগ্রি বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা পর্যালোচনা কমিটি তার মাস্টার্স থিসিসে প্ল্যাজারিজমের প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়।